Friday, October 25, 2019

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ সম্পর্কিত সকল তথ্য। কি কি সুযোগ অ...

আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো। কোথায় কোন কলেজ অবস্থিত, কত সালে প্রতিষ্ঠিত । কি কি অনুষদ এবং বিভাগ রয়েছে এবং অন্যান্য কি কি সুবিধা রয়েছে ইত্যাদি ,  তাছাড়া আরও জানবো অধিভুক্ত হওয়ার ফলে আসলে সাত কলেজ ও শিক্ষার্থীরা কি কি সুবিধা পাবে এবং পাবে না এইসব বিষয়। তো চলুন শুরু করা যাক।

সাত কলেজের প্রথম কলেজ হলঃ ঢাকা কলেজ
ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত । ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২০ই নভেম্বর তারিখে উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেব ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমান ঢাকা কলেজে যেসব বিভাগ সমূহ রয়েছে তা হলোঃ
১।ব্যবস্থাপনা ২।হিসাববিজ্ঞান। ৩।প্রাণীবিজ্ঞান ৪। রসায়ন ৫। গণিত ৬। পদার্থবিজ্ঞান ৭। ইতিহাস ৮। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৯। ইসলামের ইতিহাস ১০। সমাজবিজ্ঞান ১১। মনোবিজ্ঞান ১২।বাংলা ১৩। পরিসংখ্যান ১৪।ইংরেজি ১৫। উদ্ভিদবিজ্ঞান ১৬।অর্থনীতি ১৭।ইসলামিক স্টাডিজ ১৮। ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান ১৯। দর্শন।

আবাসিক হলসমূহ
ঢাকা কলেজ এ বর্তমানে রয়েছে ৮টি ছাত্রাবাস। ছাত্রাবাস গুলো হলঃ
১. উত্তর ছাত্রাবাস
২. দক্ষিণ ছাত্রাবাস
৩. পশ্চিম ছাত্রাবাস
৪. আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস
৫. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস
৬. শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস
৭. দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস
৮. শেখ কামাল ছাত্রাবাস।


ইডেন মহিলা কলেজ
ইডেন মহিলা কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি মহিলা কলেজ। সচরাচর একে ইডেন কলেজ বলা হয়। এটি ঢাকার আজিমপুর এলাকায় অবস্থিত। এই কলেজটি প্রাচীন, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। এটি তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সী বা বাংলা প্রদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথম মহিলা কলেজ।  এই কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।

বর্তমান ইডেন মহিলা কলেজ যেসব বিভাগ সমূহ রয়েছে তা হলোঃ
বাংলা  • ইংরেজি  • ইতিহাস  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  • ইসলামী শিক্ষা  • দর্শন  • সমাজবিজ্ঞান  • অর্থনীতি  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান  • সমাজকর্ম
 পদার্থবিজ্ঞান  • রসায়ন  • গণিত  • উদ্ভিদবিজ্ঞান  • প্রাণীবিজ্ঞান  • ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা  • মনোবিজ্ঞান  • গার্হস্থ্য্য বিজ্ঞান   • হিসাববিজ্ঞান  • ব্যবস্থাপনা  • মার্কেটিং  • ফাইনান্স ও ব্যাংকিং

এই কলেজে মোট ছাত্রীনিবাস আছে ৬ টি।
খোদেজা খাতুন, জেবুন্নেসা হোস্টেল, রাজিয়া বেগম ছাত্রী নিবাস, হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) ছাত্রী নিবাস, হাসনা বেগম ছাত্রী নিবাস, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল

এই কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি লাইব্রেরী রয়েছে। লাইব্রেরিতে ৪৪,৮৩৫ টি বই ও ২০০০ টি জার্নাল রয়েছে। লাইব্রেরীটি কলেজ প্রাঙ্গনে ৪ নং ভবনে অবস্থিত। লাইব্রেরীতে বসে বই পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরী কার্ড সংগ্রহ করতে হয়। লাইব্রেরী থেকে বই বাসায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ছাত্রীদের চিকিৎসা প্রদানে কলেজ প্রাঙ্গনে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। এই চিকিৎসা কেন্দ্রকে সার্বিক সহযোগিতা করছে একটি ঔষধ কোম্পানী। এখানে দু’জন মনোচিকিৎসক সহ মোট তিনজন ডাক্তার রয়েছে।


কবি নজরুল সরকারি কলেজ
 সরকারি কবি নজরুল কলেজ হিসেবেও পরিচিত,  বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮৭৪ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯২ সাল থেকে এর বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। এই কলেজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

কবি নজরুল সরকারি কলেজে যেসব  বিভাগ রয়েছে তাহলঃ
বাংলা , ইংরেজী , অর্থনীতি , রাষ্ট্রবিজ্ঞান , ইতিহাস , ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি , দর্শনশাস্ত্র , সমাজবিজ্ঞান , আরবি সাহিত্য , পালি , সংস্কৃত , পদার্থবিজ্ঞান , রসায়ন , উদ্ভিদবিজ্ঞান , প্রাণিবিজ্ঞান , স্থিতিবিদ্যা , গণিত  , ভূগোল , মনোবিজ্ঞান , কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল , হিসাববিজ্ঞান , ব্যবস্থাপনা

তাছাডাও চিকিৎসা প্রদানের জন্য কলেজ প্রাঙ্গনে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। এটি শুধুমাত্র কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত।


সরকারী তিতুমীর কলেজ
সরকারি তিতুমীর কলেজ বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই কলেজটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।  সে সময় কলেজটি জিন্নাহ কলেজ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কলেজটির নাম পরিবর্তন করে তিতুমীর কলেজ রাখা হয়। কলেজটি ঢাকা শহরের বনানী থানার অন্তর্ভূক্ত মহাখালী এলাকায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটিতে শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে ক্লাস নেয়া হত, তবে বর্তমানে এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতোকত্তর শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে

 এখানে যেসকল বিভাগ ও অনুষদ  চালু রয়েছে তা হলঃ
বিজ্ঞান অনুষদ:
পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, ভূগোল ও পরিবেশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)

বাণিজ্য অনুষদ:
হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং

কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ:
বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, সমাজ বিজ্ঞান, ইসলাম শিক্ষা, সমাজকর্ম, ইসলামের ইতিহাস ও সংকৃতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান

তিতুমীর কলেজে প্রতিটি অনুষদের নিজস্ব গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরী রয়েছে। এখানে ১৭০০০ বই সংগ্রহে রয়েছে। গ্রন্থাগারটির অবস্থান বিজ্ঞান ভবনের নিচতলায়।

কলেজটির ছাত্র-ছাত্রীর জন্য তিনটি আবাসিক হল রয়েছে; এগুলো হলোঃ
আক্কাছুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাস।
সুফিয়া কামাল ছাত্রী নিবাস।
সিরাজ ছাত্রী নিবাস।


সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ঢাকার লক্ষ্মীবাজার পুরনো ঢাকাতে , বাংলাদেশের একটি সরকারী কলেজ । এই কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, ও স্নাতকোত্তর পড়ানো হয় । ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ থেকে কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয় ।এই কলেজটি ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পাঠদানের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স পড়ানো হয়

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে নিম্নলিখিত বিভাগের জন্য গঠিত:
বাংলা ,ইংরেজী , অর্থনীতি , রাষ্ট্রবিজ্ঞান , ইতিহাস , ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি , দর্শনশাস্ত্র , সমাজবিজ্ঞান , পদার্থবিজ্ঞান , রসায়নবিজ্ঞান , উদ্ভিদবিজ্ঞান , প্রাণিবিজ্ঞান , মৃত্তিকাবিজ্ঞান , গণিত , ভূগোল ও পরিবেশ , হিসাববিজ্ঞান , ব্যবস্থাপনা , মার্কেটিং , ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ

কলেজটিতে রয়েছে একটি লাইব্রেরী। কলেজের লাইব্রেরীটি পশ্চিম পাশের বিল্ডিং এর নীচ তলায় অবস্থিত। এখানে পাঠ্যবই, গল্পের বই, উপন্যাসের বই রয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বই বাসায় নিয়ে যেতে পারে। লাইব্রেরীতে বসার জন্য সাধারণ কাঠের বেঞ্চ ও টেবিল রয়েছে।


বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ
১৯৪০ সালে এই কলেজটি ইডেন স্কুল ও কলেজ নামে স্থাপিত হয়েছিল।  ১৯৪৮ সালে এটি সাত নম্বর বকশি বাজারে স্থানান্তরিত হয় এবং তখন থেকেই কলেজটি প্রথম সরকারি কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কলেজটি ইডেন কলেজ নামে পরিচিতি পায় |  ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম বদরুন্নেসার মৃত্যুর পর তার নামানুসারে কলেজটির পুনরায় নামকরণ করা হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ

এই কলেজটির বিভাগসমূহ হলোঃ
বাংলা, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, গার্হস্থ , অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, সমাজকর্ম, ব্যবসায় শিক্ষা, অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, ম্যানাজমেন্ট, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, পরিসংখ্যান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান


বাঙলা কলেজ
সরকারি বাঙলা কলেজ বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি সরকারি কলেজ যা ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে পরিচয় করার চাহিদা থেকে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।  তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ খ্রিঃ হতে কলেজটির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত করা হয়।

সরকারি বাঙলা কলেজের যেসব বিভাগ রয়েছে তাহলঃ
রসায়ন , পদার্থবিজ্ঞান , গণিত , মৃত্তিকাবিজ্ঞান , প্রাণিবিজ্ঞান , উদ্ভিদবিজ্ঞান, ইংরেজি , বাংলা , রাষ্ট্রবিজ্ঞান , সমাজকর্ম , ইতিহাস , দর্শন , ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি , হিসাববিজ্ঞান , ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং , অর্থনীতি , মার্কেটিং , ব্যবস্থাপনা  বিভাগ

বর্তমানে কলেজটিতে আবাসিক ভাবে থাকার জন্য শুধুমাত্র ছাত্রদের জন্য "প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম হল" নামের একটি হল আছে। সম্প্রতি সময়ে সরকারি অনুদানে আরেকটি হল তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

এই হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ। সাত কলেজ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য প্রত্যেকটি কলেজের ওয়েবসাইটের ঠিকানা ডেছক্রিবশনে দেওয়া আছে। আপনি চাইলে দেখে নিতে পারেন।



এবার দেখি সাত কলেজ এবং তার  শিক্ষার্থীরা  কি কি সুবিধা পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেঃ
 ** ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে আছে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল, টেক্সটাইল এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ। ১০৪টি কলেজের মতোই চলবে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া অধিভুক্ত সাত কলেজ। অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজের মতো নতুন সংযোজিত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট। তবে সার্টিফিকেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে অধিভুক্ত স্ব-স্ব কলেজের ও বিভাগের নাম। সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে হল ও বিভাগের নাম উল্লেখ থাকে।

অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই নিজেদের ঢাবির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়ার সুযোগ নেই।

অধিভুক্ত কলেজগুলোর পাঠ্যক্রম তৈরি করে দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার দিন-তারিখ নির্ধারিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে। তবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে স্ব-স্ব কলেজে। ফলাফল প্রণয়নও হবে প্রশাসনিক ভবন থেকে। ঢাবির অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজের মতো পৃথক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তি হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। তবে এটি কোনোভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বলে গণ্য হবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সাতটি কলেজ ঢাবির অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজের মতো শুধু প্রশাসনিক সুবিধা পাবে। ওইসব কলেজে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সহযোগিতা করবে। এটি কোনোভাবেই ঢাবির অন্তর্ভুক্ত নয়।**



এই ছিল  সাত কলেজ সম্পর্কিত তথ্য।

Related Tags: 7 college under dhaka university, 7 college admission, 7 college, dhaka college, du 7 college suggestions, du affiliated college, eden mohila college, dhaka university, kabi nazrul college, du affiliated 7 college, how to appy for 7 college, ঢাবি ৭ কলেজে, 7 college admission 2019-20, 7 college admission system, 7 college information, 7 college 2019-20,   7 college exam suggestion, information about the admission of 7 colleges affiliated to dhaka university, ict point, under dhaka university, government titumir college, under du, 7 college under du, 7 college apply date, ৭ কলেজের পরীক্ষার তারিখ, অধিভুক্ত ৭ কলেজের অনলাইনে আবেদন, 7college 2018-19, affiliated to dhaka university, admission of 7 colleges affiliated to dhaka university, আবেদনের যোগ্যতা, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন, ৭ কলেজ লিস্ট, কীভাবে আবেদন করবো ৭ কলেজে, seven colleges under dhaka university, admission, ৭ কলেজ, ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজ, ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজ ভর্তি তথ্য, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের নাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজের নাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের নাম, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তির নিয়ম, সাত কলেজের রেজাল্ট, সাত কলেজের ওয়েবসাইট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি


Tuesday, October 22, 2019

১০০ বছরের বেশি বয়সি বাংলাদেশি কলেজ। 100 years old college in bangladesh

                           
১০০ বছরের বেশি বয়সি বাংলাদেশি কলেজ। 100 years old college in bangladesh

ঢাকা কলেজ ১৮৪১  
ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত | ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছিলো  ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২০ই নভেম্বর তারিখে উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেব ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম কলেজ  ১৮৬৯     
চট্টগ্রাম কলেজ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি চট্টগ্রাম শহরের চকবাজার এলাকার কলেজ রোডে অবস্থিত। এই কলেজ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত। এটি ঢাকা কলেজের পর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের ২য় কলেজ। ১৮৩৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা স্কুল হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম।  প্রতিষ্ঠালগ্নের তেত্রিশ বছর পরে ১৮৬৯ সালে একে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

ইডেন মহিলা কলেজ ১৮৭৩     
ইডেন মহিলা কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি মহিলা কলেজ। সচরাচর একে ইডেন কলেজ বলা হয়। এটি ঢাকার আজিমপুর এলাকায় অবস্থিত। এই কলেজটি প্রাচীন, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। এটি তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সী বা বাংলা প্রদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথম মহিলা কলেজ। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। এই কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।

রাজশাহী কলেজ ১৮৭৩     
রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের রাজশাহী শহরে অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮৭৩ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজ এর পরে রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের ৩য় প্রাচীনতম কলেজ। ২০১৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের সেরা কলেজ। 

কবি নজরুল সরকারি কলেজ ১৮৭৪      
কবি নজরুল সরকারি কলেজ (এছাড়াও কেএনজিসি হিসাবে উল্লেখ করা হয়) সরকারি কবি নজরুল কলেজ হিসেবেও পরিচিত, এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮৭৪ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে।  এই কলেজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। 

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ১৮৭৪     145
হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ,  চট্টগ্রাম শহরের কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  এই কলেজের পর্তুগিজ ভবন নগরীর অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা। মহসিন কলেজ চট্টগ্রামের নামকরা কলেজগুলোর মধ্যে একটি। ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন এর "মহসিন ফান্ড" এর অর্থায়নে একটি মাদ্রাসা  হিসেবে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত করা হয়।তখন থেকেই এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। 

নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ  ১৮৮৬     
নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ নড়াইল জেলা সদরে অবস্থিত নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন স্থানীয় জমিদারদের প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে সুনাম ও গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল দেখিয়ে আসছে এ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে রেখেছে অপরিসীম ভূমিকা। 

ব্রজমোহন কলেজ  ১৮৮৯     
ব্রজমোহন কলেজ বা বি.এম কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাংশে বরিশাল শহরে অবস্থিত। ১৮৮৯ সালে প্রখ্যাত সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী অশ্বিনীকুমার দত্ত কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত ছিল। সেসময়ে এ কলেজের মান এতই উন্নত ছিল যে অনেকে একে দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড বলে আখ্যায়িত করেন। 

মুরারিচাঁদ কলেজ   ১৮৯২     
মুরারিচাঁদ কলেজ (সংক্ষেপে: এমসি কলেজ) বাংলাদেশের একটি উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি সিলেট শহরের টিলাগড় এলাকায় অবস্থিত এবং বৃহত্তর সিলেটের সবচাইতে পুরনো ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাকালের দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত কলেজগুলোর মধ্যে ৭ম; ঐতিহ্যবাহী কলেজটি ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা  ১৮৯৮     
সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে, পাবনা, বাংলাদেশের পাবনা জেলায় অবস্থিত অবিভক্ত বৃটিশ বাংলায় প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮৯৮ সালে শ্রী গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১১ সালে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে  ভারতের তৎকালীন সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ডের নামানুসারে এডওয়ার্ড কলেজ করা হয়। ১৯৬৮ সালের ১লা মার্চ এডওয়ার্ড কলেজকে সরকারীকরণ করা হয়।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ১৮৯৯     
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। এটি কুমিল্লার সবচেয়ে পুরাতন এবং বিখ্যাত কলেজ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায় রানী ভিক্টোরিয়ার নামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কলেজ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত।

ব্রজলাল (বি এল) কলেজ  ১৯০২     
সরকারি বি. এল. কলেজ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্যতম প্রধান কলেজ যা খুলনা শহরে দৌলতপুরে ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯০২ সালের জুলাই মাসে খুলনার শিক্ষায় পৃষ্ঠপোষক শিক্ষানুরাগী শ্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী) কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে ২ একর জায়গার উপর দৌলতপুরে হিন্দু একাডেমী নামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তীতে হাজী মহম্মদ মহসীন ট্রাস্ট তার সৈয়দপুর এস্টেটের ৪০ একর জমি এই প্রতিষ্ঠানে দান করে । ১৯৬৭ সালের ১লা জুলাই তারিখে সরকারি কলেজে রূপান্তর করা হয়।

আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ  ১৯০৮         
আনন্দ মোহন কলেজ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরের অবস্থিত একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটি ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।  বাঙালি শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক আনন্দমোহন বসু ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ময়মনসিংহ ইনস্টিটিউশন।  ১৯০৮ সালে ময়মনসিংহ সিটি কলেজ আনন্দ মোহন কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে যার পুরো জায়গা দান করেন মৌলভী হামিদ উদ্দিন তবে কলেজের শিক্ষাপ্রদান কার্যক্রম শুরু হয় ১৯০৯ সালে। কলেজটি ১৯৬৪ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

কারমাইকেল কলেজ  ১৯১৬         
'কারমাইকেল কলেজ  দেশের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯১৬ সালে রংপুরে স্থাপিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় লর্ড ব্যারন কারমাইকেলের নামানুসারে। সৃষ্টির লগ্ন থেকেই বৃহত্তর রংপুরের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ব্যপক অবদান রেখে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এই কলেজ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত।

সরকারী পি.সি কলেজ  ১৯১৮     
বাগেরহাটে শিক্ষানুরাগী জনগনের চেষ্টায় ১৯১৫ সালে কাড়াপাড়া গ্রামে এক শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  ১৯১৭ সালে ২৮ অক্টোবর কলেজ প্রতিষ্ঠার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।   প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত কলেজের নাম ছিল বাগেরহাট কলেজ। এর পর কলেজের পরিচালনা পর্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নাম পরিবর্তন করে প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ বা পি.সি. কলেজ নামকরণ করা হয়।

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ১৯১৮     
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ । দক্ষিণ বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । এটি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ফরিদপুর জেলা শহরে অবস্থিত। ফরিদপুরে কলেজ প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন জেলার বিখ্যাত আইনজীবি এবং প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা (অবিভক্ত কংগ্রেসের সভাপতি) অম্বিকাচরণ মজুমদার ।

Wednesday, October 16, 2019